rongginnbd
Friday, March 9, 2018
রূপচর্চায় বিটকপির ব্যবহার
রঙিন ডেস্ক :
নানা স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর বিট কপি। এই বিট কপিতে শুধু স্বাস্থ্য নয় সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও দারুণ উপকারি। এটা ত্বকে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত যদি এই সবজিটি খাওয়া যেতে পারে, তাহলে একাধিক শারীরিক উপকারও পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো বিটের রসকে ব্যবহার করে ত্বকের পরিচর্যা করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়? চলুন সেগুলোর উত্তর দেখে নেয়া যাক-
১.ত্বকের বয়স কমে:
একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে স্ট্রেস এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অসময়েই ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে কম বয়সেই ত্বক হারিয়ে ফেলছে তার সৌন্দর্য, সেই সঙ্গে বলিরেখায় ছেয়ে যাচ্ছে সারা মুখ! এমন পরিস্থিতির শিকার যদি আপনিও হয়ে থাকেন, তাহলে আজ থেকেই বিটের রসের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা শুরু করুন। দেখবেন ত্বকের বয়স কমতে সময় লাগবে না। এক্ষেত্রে বিটকে ছোট ছোট টুকরো করে মিক্সিতে ফেলে জুস বানিয়ে নিতে হবে। এরপর তুলোর সাহায্যে সেই জুস ধীরে ধীরে সারা মুখে লাগিয়ে কম করে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে সারা মুখ। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে একবার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলেই সুফল মিলতে শুরু করবে।
২. ত্বকের দাগ মেটায়:
নানা কারণে অনেক সময়ই সারা মুখে কালো ছোপ ছোপ দাগে ছেয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রেও যদি বিটের রসকে ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে কাজে লাগানো যায়, তাহলে অল্প সময়ে দাগ মিলিয়ে যেতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হলো- এমন ধরনের ত্বকের সমস্যা কমাতে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে বিটের রস?
প্রথমে পরিমাণ মতো বিটের রস বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই রস ভাল করে সারা মুখে লাগিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলতে হবে সারা মুখ। প্রসঙ্গত, বিটের রসে উপস্থিত ভিটামিন সি এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে ত্বকের অন্দরে এই ভিটামিনটির মাত্রা যত বাড়তে শুরু করে, তত টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে, সেই সঙ্গে কোলাজেনের উৎপাদনও বেড়ে যায়। ফলে দাগ মিলিয়ে গিয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠতে সময় লাগে না।
৩. ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে:
অনেক কারণেই আমাদের ত্বক আদ্রতা হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনটা হলে তৎক্ষনাৎ যদি ব্যবস্থা নেওয়া না যায়, তাহলে বলিরেখা প্রকাশ পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দ্রুত সৌন্দর্য কমে যেতেও সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে ত্বকের ড্রাইনেস কমানো সম্ভব? এক্ষেত্রে নিয়মিত বিট রুটের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করা শুরু করুন। দেখবেন স্কিনের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসতে সময় লাগবে না। সেই সঙ্গে ত্বক তুলতুলে এবং নরম হয়ে উঠবে।
৪. মৃত ত্বকের স্থর সরিয়ে ফেলে:
প্রতিনিয়ত মৃত কোষ ত্বকের উপরিঅংশে জমতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে একদিকে যেমন নানাবিধ স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তেমনি ত্বকের সৌন্দর্যও কমে। আপনি যদি একই ধরনের সমস্যার শিকার হতে না চান, তাহলে আজ থেকেই ত্বকের পরিচার্যায় বিট কাজে লাগান। দেখবেন হাতে-নাতে ফল পাবেন। কারণ বিটের রসের অন্দরে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান ত্বকের উপরে জমতে থাকা মৃত কোষের আবরণকে সরিয়ে ফেলে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে সময় লাগে না।
৫. চুলের সৈন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
শুধু ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে নয়, চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রেও নিয়মিত বিটের রস দিয়ে নিয়মিত চুল ধুতে হবে। এমনটা করলে স্কাল্পে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত হারে চুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা কমবে। সেই সঙ্গে মিলবে আরো অনেক উপকার।
৬. ফর্সা ত্বক পেতে সাহায্য করবে:
চটজলদি স্কিন টোনের উন্নতি ঘটাতে চান নাকি? তাহলে ১ চামচ বিটের রসের সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রন বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রনটি ভাল করে ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভাল করে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে যদি প্রতিদিন রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে ত্বকের খেয়াল রাখতে পারেন, তাহলে ফর্সা ত্বক পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে দেখবেন সময় লাগবে না।
৭. ব্রণর প্রকোপ কমায়:বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ সমস্যা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আপনি যদি বিটের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতান, তাহলে এমন ধরনের ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই কম যায়। এক্ষেত্রে ২ চামচ বিটের রসের সঙ্গে ১ চামচ দই মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এই পেস্টটি নিয়মিত মুখে লাগালে ব্রণর প্রকোপ তো কমবেই, সেই সঙ্গে ব্রণর দাগ মিলিয়ে যেতেও সময় লাগবে না।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment