Tuesday, October 24, 2017

গৃহবধূরা স্বামীর কাছ থেকে কথাগুলো শুনতে চান না

রঙিন ডেস্ক : সংসার সামলানো স্ত্রীদের কাজকর্ম থাকে চব্বিশ ঘণ্টায়। আর দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে যে তাদের কপালে না আছে ছুটি, না আছে মাইনে আর না আছে প্রমোশনের সুখবর। আপনার স্ত্রী কি সন্তানের জন্মের পর আর চাকরি করছেন না? সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে আপনার বিবেচক হওয়া উচিৎ। অনেক সময় এই ধরণের পরিস্থিতিতে স্বামীর অবিবেচক মন্তব্যের জন্য স্ত্রীরা মনঃকষ্টে ভোগেন। টাকাপয়সার চাপ যতই থাক, কিছু কথা কোনও স্বামীরই উচিৎ নয় তাঁর স্ত্রীকে বলা:
১। “যেহেতু আমিই শুধু আয় করি, সেহেতু সংসারের সমস্ত সিদ্ধান্ত আমিই নেব”।
এর চেয়ে বেশি আঘাত বোধ হয় বাপান্ত করেও দেওয়া সম্ভব নয়। আপনার স্ত্রী মাস গেলে মাইনে পাচ্ছেন না মানে এই নয় যে আপনাদের সাংসারিক সিদ্ধান্তগুলো আপনিই একতরফা নেবেন। ঘরের বাইরে যে কাজ করছে আর যে ঘর সামলাচ্ছে; দু’জনেরই সমান অধিকার রয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যখন একজন মানুষ অন্যজনকে বিয়ে করে, তাঁদের পথচলার প্রথম শর্ত হয়ে ওঠে ছোট বড় সমস্ত সিদ্ধান্ত ভাগ করে নেওয়ার; অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো তো বটেই।
২। “কিছু কেনার হলে আগে আমার মতামত নিয়ে নিতে হবে”।
আপনার স্ত্রী আপনার কর্মচারী নন, কাজেই এ’ভাবে কথা বলার কোনও অধিকার আদৌ আপনার নেই। বড় কোনও কেনাকাটির আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নেওয়া এক জিনিস, কিন্তু প্রত্যেক ছোটখাটো খরিদ্দারির আগে যদি আপনার স্ত্রীর আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়, তা’হলে ব্যাপারটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পরিস্থিতি যদি উলটো হত আর আপনাকে যদি এই ধরণের কথা শুনতে হত তাহলে কিন্তু আপনি কিছুতেই হজম করতে পারতেন না। মনে রাখবেন আপনার স্ত্রী আপনার শ্রেষ্ঠ সঙ্গী, গোটা জীবন এক অপরের পাশে থাকাটা আপনাদের দু’জনেরই কর্তব্য।
৪। “সংসারের জন্য কতটুকু কর তুমি”?
ঝগড়া যুদ্ধ যাই হোক না কেন, এই কথাটা বলা কখনই সমীচীন নয়।আপনার স্ত্রী নিজের সমস্তটুকু দিয়ে নিজের সংসার আর সন্তান সামলে চলেছেন। অর্থনৈতিক কোনও সমস্যার জন্য স্ত্রীর ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে সেই কথাটা ভাবুন। অকারণ দোষারোপ না করে দু’জনে মিলে ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার সমাধান খুঁজুন, তা’তে কাজ হবে বেশি। দু’জনে আলোচনা করে ঠিক করুন খরচ সামাল দেবেন কী ভাবে বা আয় বাড়ানোর অন্য কোনও উপায় রয়েছে কিনা যা’তে গেরস্থালীটা নিশ্চিন্তে থাকে।
৫। “আমি তোমায় প্রতি মাসে হাতখরচ দেব”।
এ’টা বলে আপনি নিজেকে উদারচেতা বলে ভাবার চেষ্টা করতেই পারেন কিন্তু আদতে এ’টা আপনার স্ত্রীর পক্ষে যথেষ্ট অসম্মানজনক। আপনার স্ত্রীর মাসে ঠিক কত টাকা খরচ করা উচিৎ, তা আপনি কিছুতেই ঠিক করে দিতে পারেন না (সে আপনার আয় যতই হোক না কেন)। হ্যাঁ, দু’জনে মিলে আলাপ আলোচনা করে যদি নিজেদের খরচের সীমা ঠিক করতে চান; তা’তে ক্ষতি নেই। খরচের ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত আপনার স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া আদৌ কোনও কাজের কথা নয়। একে অপরকে যথেষ্ট সম্মান না করতে পারলে দাম্পত্যকে সহজেই বোঝা মনে হতে পারে।
৬। “তুমি আমার সঙ্গে আছ শুধু আমার টাকার জন্য”।এর থেকে কুরুচিকর মন্তব্য বোধ হয় খুব বেশি নেই। প্রত্যেক নারীই বাইরে গিয়ে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কর্মক্ষেত্রে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা সংসার ও সন্তানের স্বার্থে গেরস্থালীর মধ্যে থেকে সন্তুষ্ট থাকে। তাঁরা চাকরী আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার স্বাদ ভুলে থাকেন শুধু সন্তানের মুখ চেয়ে আর সংসারের ছোটখাটো সুখের কথার খেয়াল রেখে। প্রত্যেক পুরুষের উচিৎ সেই আত্মত্যাগকে সমীহ করা।

No comments:

Post a Comment