Wednesday, November 22, 2017

গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলায় রংপুরের জয়

একদিকে গেইল-ম্যাককালাম-মালিঙ্গা-পেরেরা। অন্যদিকে আফ্রিদি-পোলার্ড-আমির-লুইস। দুই দলের নেতৃত্বে দেশের দুই সেরা তারকা মাশরাফি ও সাকিব।বলার অপেক্ষা রাখে না, বিপিএলের সবচেয়ে ‘হেভিওয়েট’ দুই দল রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের লড়াই! ম্যাচকে ঘিরে ছড়িয়েছিল উন্মাদনা, উত্তেজনা, রোমাঞ্চ। সেরাদের লড়াই দেখার জন্য মিরপুর শের-ই-বাংলাও হাউসফুল। মাঠে লড়াইও হলো, রোমাঞ্চও ছড়াল।
২৮ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন গেইল। গেইল একপ্রান্তে খেলে গেলেও অন্যপ্রান্তে ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। গেইল ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান রংপুরের হয়ে লড়াই করতে পারেননি। দৃষ্টিকটু ছিল স্থানীয় ক্রিকেটারদের ব্যাটিং! মোসাদ্দেকের বলে গেইল আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত রংপুরের রান ছিল ৭ ওভারে ৭১, রান রেট ১০.১৪। সেখানে গেইল আউট হওয়ার পর বাকি ১৩ ওভারে রংপুর স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে মাত্র ৭১। রানরেট ১০.১৪ থেকে এক লাফে নেমে যায় ৭.১৫-এ।
গেইল কথা রাখলেও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ছিলেন নিষ্প্রভ। আফ্রিদির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮ বলে করেন ৬ রান। গেইলের তাণ্ডবের পর জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ মিঠুন ও শাহরিয়ার নাফীস। কিন্তু তাদের ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, এটা ২০ ওভারের ম্যাচ! পাঁচ উইকেট পাওয়া সাকিবের প্রথম শিকারে পরিণত হওয়ার আগে শাহরিয়ার ৯ বলে করেন ৯ রান। ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে ওপরে তুলে আনেন মাশরাফি। ১ চার ও ১ ছয়ে ১১ বলে ১৫ রান করে মাশরাফি আউট হন আফ্রিদির বলে। মিঠুন রান করলেও ছিল না কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। ২৬ বলে ২২ রান করে সাকিবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। এরপর থিসারা পেরেরা (১৫) ও রবি বোপারা (১২) বাদে কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। দীর্ঘদেহী জিয়াউর রহমান ৯ বল খেলে করেন ৪ রান।
দ্রুত ২ উইকেট হারালেও বিচলিত হননি এভিন লুইস। তিন ছক্কায় রংপুরকে কড়া জবাব দেন ক্যারিবীয় এই ওপেনার। তাকে সঙ্গ দেন জহুরুর ইসলাম। দুজন ৪৪ রানের জুটি গড়েন। পানি পানের বিরতির পর এ জুটি ভাঙেন সোহাগ গাজী। ডানহাতি এই স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হন ২৫ বলে ২৮ রান করা লুইস। ৬৯ থেকে ৭৫ পর্যন্ত যেতেই আরো ২ উইকেট হারায় ঢাকা। ১৯ বলে ২৯ রান করা জহুরুলকে দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংসে এসে বোল্ড করেন মাশরাফি। মেহেদী মারুফের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন মোসাদ্দেক।
শেষ ৬ বলে ঢাকার জয়ের জন্য দরকার ১০ রান। থিসারার পেরেরার প্রথম দুই বলে কোনো রান নিতে পারেননি পোলার্ড। কী মনে করে তৃতীয় বলটি ফুলটস দেন পেরেরা। পোলার্ড সে অপেক্ষায় ছিলেন। মিড উইকেট দিয়ে বল পাঠান গ্যালারিতে। ৩ বলে দরকার ৪ রান। পরের বল আবারও ডট। এবং পঞ্চম বলে বোল্ড পোলার্ড। পেরেরার ইয়ার্কারে ব্যাট চালালেও সংযোগ করতে পারেননি ক্যারিবীয় তারকা। শেষ বলে ব্যাটিংয়ে ক্রিস গেইলের ক্যাচ মিস করা আবু হায়দার রনি। পেরেরার বলে স্কুপ মারতে গেলেন রনি। বল মিস করে হারালেন উইকেট। জয় রংপুরের। রংপুর শিবিরে উল্লাস, ঢাকা শিবিরে তখন পিনপতন নীরবতা!


No comments:

Post a Comment