Tuesday, February 13, 2018

শত দু:খের মাঝেও সুখ খুঁজতে..

রঙিন ডেস্ক : আমরা সবাই সুখী হতে চাই। কিন্তু হব কীভাবে, তার উত্তর কারও কাছেই নেই। আমরা সবাই অন্ধের মতো এদিক সেদিকে ঘুরে বেরাই এক মুহূর্ত সুখের সন্ধানে। তবে আর নয়! এবার আমাদের জানতেই হবে শত দু:খের মাঝে সুখী হওয়ার সেই শতাব্দী প্রাচীন ফর্মুলা সম্পর্কে। সত্যিই কি এমন কোনো ফর্মুলা আছে, যা মেনে চললে সুখের সন্ধান মেলে? জীবনের পরিধি কতটা, তা আমরা কেউই জানি না। তাই আর সময় নষ্ট নয়, এখন, এই মুহূর্ত থেকেই সুখ থাকার চেষ্টায় লেগে পড়ুন।
১. যে জিনিস সুখ দেয় না তা থেকে দূরে থাকুন:
খেয়াল করে দেখুন, সারা দিনে আমরা এমন অনেক কাজ করে থাকি, যা কোনওভাবেই আমাদের সুখ দেয় না। তবু নানা কারণে আমরা তা করে থাকি। কিন্তু এবার থেকে এমনটা করা বন্ধু করুন। সহজ কথায় যে কাজ সুখ দেয় না, সেই কাজের পিছনে সময় নষ্ট করা চলবে না। সেই সঙ্গে যে কোনো বিষয়ে সময় নষ্ট করার আগে নিজেকে একটাই প্রশ্ন করতে হবে, “এই কাজটি কি আমায় আনন্দ দেবে?”
৩. মন খারাপকে এতটাই চেপে ধরুন যাতে সে পালাতে বাধ্য হয়:
শুনতে হয়তে একটু আজব লাগছে। কিন্তু বিশ্বস করুন এটা দুঃখকে দূরে রাখার একটা অসাধারণ উপায়। সাইকোলজিস্টরা বলেন, যেটায় ভয় হয় সেটা থেকে পালাবেন না। বরং তার সামনাসামনি হন, তাহলে দেখবেন ভয় পালিয়ে যাবে। একইভাবে যে কারণেই মন খারাপ হোক না কেন, সেই মন খারাপের মুহূর্তটাকে ভাল করে অনুভব করুন। এমনটা করলে দেখবেন নিমেষে মন ভাল হয়ে যাবে।
৪. নিজের হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে দূর করুন:
“এই চাকরিটা পেলেই আমি সুখ হয়ে যাব।” “যেদিন এই বাড়িটা কিনতে পারবো, সেদিন আমার থেকে সুখী আর কেউ হবে না।” এমনভাবে কি আপনিও সুখের সন্ধান করে থাকেন নাকি? তাহলে আজ থেকেই এই অভ্যাস ছাড়ুন। কারণ এইভাবে নিজের সামনে স্বপ্নের গাজর ঝুলিয়ে কোনো দিনই আপনি সুখের সন্ধান পাবেন না। কারণ সুখ কোনো টার্গেট নয়, এটা একটা অনুভূতি। তাই নিজেকে টার্গেটের চক্করে বেঁধে ফলবেন না। একবার ভাবুন তো আপনি যদি এই টার্গেটগুলো পূরণ করতে না পারেন, তাহলে কী করবেন? তাহলে কী কোনো দিনই সুখ হবেন না। তাই দৈনিন্দিন জিনিসের মধ্যে সুখের সন্ধান করা শুরু করুন, দেখবেন দুঃখ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।
৫. যে সম্পর্ক সুখ দেয় না তা থেকে বেরিয়ে আসুন:
এই কথাটা বলাটা যতটা সহজ, করাটা ততটাই কটিন। কিন্তু সুখী থাকতে গেলে যে করতেই হবে বন্ধুরা! আর যে কোনও উপায় নেই। কারণ যে সব মানুষ সারা দিন তাদের জীবনকে পিষে চলেছেন তাদের সঙ্গে থাকলে আপনার মনও খারাপ হয়ে যাবে। আর মন খারাপ নিয়ে বাঁচাটা যে বড়ই কঠিন। আর যদি একান্তই এমন মানুষদের সঙ্গে ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে যতটা কম সময় পারবেন এমন মন খারাপ করা মানুষদের থেকে দূরে থাকবেন। কারণ ভুলে যাবেন না সুখ যেমন সংক্রমক, তেমনি দুঃখও কিন্তু!
৬. সংখ্যালঘু হয়ে বাঁচার চেষ্টা করুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে অফুরন্ত আনন্দের সন্ধান যদি পেতে চান, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে নিয়ম মেনে চলছেন না, সেই নিয়মকে সঙ্গী বানিয়ে জীবনকে এমন দিশা দেখাতে হবে। আর সেই নিয়মটি আর কিছুই নয়, একটা সহজ কথা। কী কথা? মানব জীবন একদিন না একদিন শেষ হবেই। তাই তো যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন চেটেপুটে উপভোগ করুন জীবনকে। দুঃখকে ঝাল খাবার আর সুখকে মিষ্টি ভেবে খেয়ে ফেলুন। সেই সঙ্গে প্রতিদিনকে বিভিন্ন স্বাদের আইসক্রিম ভেবে উপভোগ করুন। এমনটা করলে দেখবেন একটা সময় আসবে, যখন দেখবেন দুঃখ বলে আপনার জীবনে কিছুই থাকবে না। কারণ আপনি দুঃখেও যে সুখের মতোই উপভোগ করতে শুরু করেছেন!
৭.গোমড়া মুখোদের সঙ্গ ছাড়ুন:
সৎ সঙ্গে থাকলে যেমন স্বর্গবাস সম্ভব হয়, তেমনি হাসিসুখ মানুষের সঙ্গে থাকলে সুখের সন্ধান পেতেও কষ্ট হয় না। আসলে সুখী থাকাটা অনেকটা সংক্রমণের মতো। তাই দেখবেন কাউকে হাসতে দেখলে আপনা থেকেই আমাদের মনও খুশি হয়ে যায়। আর এই যুক্তিটিকে আধুনিক বিজ্ঞানও মান্যতা দিয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আমরা কী পরিবেশে দিনের বেশিটা সময় কাটাচ্ছি, তার উপর আমাদের সুখ-দুঃখ অনেকাংশেই নির্ভর করে। তাই দুখি মামনুষদের সঙ্গে ছেড়ে আজ থেকেই জীবনের বাকি পথটা যতটা সম্ভব “হাসিমুখ” লোকেদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন। দেখবেন দুঃখ এলেও তার আঁচ আপনার গায়ে লাগবে না।
৯. “না” বলাটা খুব জরুরি:
ছোট থেকে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই কথাটা শুনে আসছেন। কিন্তু করতে পারছেন কজন বলুন। আমরা প্রায় সবাই আমাদের আশেপাশের লোকেদের সুখী করতে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এমন অনেক কাজ করে থাকি, যা হয়তে বাকিদের আনন্দ দেয়, কিন্তু দিনের শেষে আমরা নিজেরাই অসুখী হয়ে পড়ি। যেমন ধরুন, আমাদের মাঝে মধ্যেই সামাজিকতার খাতিরে এমন আত্মীয়ের বাড়ি যেতে হয় যারা আমদের পছন্দ করেন না। তবু তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়। এতে পরিবারের বাকিরা খুশি হয় ঠিকই। কিন্তু আমাদের মনের খোঁজ কি কেউ রাখে? তাই না বলতে শিখুন। সহজ কথায়, যেখানে খুশি নেই সেখানে যেতে নেই।
১০. সুখে থাকার অভ্যাস করাটা জরুরি:মানে! ঠিক বুঝলাম না। একেবারেই ঠিক শুনেছেন। সুখী থাকতে গেলে তার অনুশীলন করতে হবে। আর এই কাজটা করবেন কীভাবে? খুব সহজ! অর্থবান লোকেরা যেমন সব সময় টাকার কথা বলেন। স্বাস্থ্যবান যেমন শরীরের, তেমনি সুখী মনের মানুষের সব সময় এমন কথা বলেন যাতে বাকি সবাই সুখ হন। আর যেমনটা আগেও বলেছি আশেপাশের লোকেরা সুখী হবে তো আপনা থেকে আপনার মনও খুশি হয়ে যাবে।


No comments:

Post a Comment