Wednesday, March 7, 2018

হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে যে আভাস দেয় স্বাস্থ্যে

রঙিন ডেস্ক : অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ করে ক্ষুধা লেগে গেলো, বিশেষ কোনো খাবার খেতে মন চাইছে। এটা নেশার মতো কাজ করে। হয়তো সকাল উঠে মিষ্টি কিছু খাওয়ার জন্য মনটা আনচান করতে থাকলো। কিংবা ডিনারের পর আইসক্রিম খেতে অস্থিরতা চলে আসলো। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বেশিরভাগ সময়ই অস্বাস্থ্যকার অভ্যাস হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন আপনি দেহ ও মনের সুস্থতায় সচেতন, তখন এ অভ্যাস দারুণ কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। এর জন্য কৌশলী হতে হবে। অনেক সময়ই জাঙ্ক ফুড খেতে মন চায়। কিন্তু তা একঘেয়েমি, স্ট্রেস এবং শক্তির অভাববোধের কারণ হতে পারে। নিজের মধ্যে যে অভ্যাস চাঙ্গা হয়ে উঠতে চাইছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। দিনের বিভিন্ন সময় মন এককে জিনিস খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠতে পারে। সে অনুযায়ী সঠিক জিনিস বাইছয়ের জন্য নিন পরামর্শ।
১. সকাল : নাস্তার পর পরই বা অফিসে হঠাৎ কেক খেতে মন চাইলো। কিংবা হঠাৎ করোই আবার ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেন আপনি। এর অর্থ হলো, আপনার দেহে প্রোটিনের অভাব রয়েছে। এই উপাদানটি আপনার ক্ষুধা নিবারণ করে বহু সময় ধরে। প্রোটিন দেহে নিরেট শক্তি দেয়। সকালে যে প্রোটিন দেহে যায় তা গোটা দিন অ্যামাইনো এসিড সরবরাহ করে। এ ধরনের ক্ষুধায় কার্বোহাইড্রেটপূর্ণ স্ন্যাক্সে আসক্ত না হয়ে প্রোটিনপূর্ণ খাবার বেছে নিন। নাস্তার সঙ্গে একটা সেদ্ধ ডিম খেয়ে নিন। দিনের প্রথম খাবারে তাই যথেষ্ট প্রোটিন থাকা দরকার।
২. দুপুর : লাঞ্চের পর মনে হয়, দেহের চাঙ্গা ভাব কমে আসছে। তখন মনে হয়, এক কাপ কফি খাওয়ার সঠিক সময় এটি। কিন্তু সাবধান! কারণ দুপুরের যে কফি খাবের তা বিপরীত আচরণ করবে। কিছু সময় পর ঘুম জড়িয়ে আসবে দু’চোখে। এর সঙ্গে দুধ মেশালে কিছু ক্যালোরি আসবে ঠিকই। কিন্তু এক কাপ গ্রিন টি সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে। এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ কম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রচুর। এই উপাদান মনোযোগী করে তোলে আপনাকে। এক কাপ গ্রিন উপভোগ করে বাইরে মিনিট পাঁচের ঘুরে আসতে পারেন। এতে মানসিক চাপ দূর হয় এবং শক্তি ফিরে আসে। সিঁড়ি বেয়ে কিছুক্ষণ ওঠা-নামা করাতেও ভালো ফল মিলবে।
৩. বিকাল : অফিস বা দিনের ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরলেই ক্লান্তি ভর করে দেহে। অথচ বাইরে তেমনটা মনে হচ্ছিল না। এর অর্থ, আপনার দেহে চিনির অভাব ঘটেছে। এ সময়টা মিষ্টি কুকি বা এক পিস চকোলেট খেতে মন চায়। এতে ডোপামাইনের ক্ষরণ ঘটে। সুখকর অনুভূতি আসে। বিষয়টি মাথায় রেখে গোটা দিনে চিনি খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু চিনি কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই বাড়িতে ফিরে নিজের প্রতি মনোযোগ দিন। কয়েক মিনিটের মেডিটেশন আপনাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। এতে কেন্দ্রিয় স্নায়বিকব্যবস্থা অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসবে। বিকালকে সামনে রেখে এমন প্রস্তুতি রাখুন।
৪. রাত : ডিনারের পর দাঁতগুলো শান্তি পায় না। শুধু মিষ্টি কোনো খাবার চিবাতে মন চায়। এমনটা হলে বুঝে নিন গোটা দিনের খাদ্য তালিকা থেকে আপনি সঠিক উপাদান পাননি। অনেকেই এ সময়টা মাথায় রেখা বাড়ি আইসক্রিম বা মিষ্টি খাবার রাখেন। চিনিপূর্ণ খাবারগুলো এড়িয়ে চলা ভালো। অন্য কোনো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হালকা উষ্ণ এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। সেই সঙ্গে রাতে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে ভুল করবেন না। এতে আপনার ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া


No comments:

Post a Comment