rongginnbd
Wednesday, March 7, 2018
ভাঙলো লালন আখড়ার সাধুর হাট
রঙিন ডেস্ক : ভক্তি, শ্রদ্ধা, গান আর আলোচনা সভার মাধ্যমে ভাঙলো লালন আখড়ার সাধুর হাট। গতকাল শনিবার সাঙ্গ হলো তিন দিনব্যাপী আয়োজিত লালন স্মরণোৎসব ও গ্রামীণ মেলা।গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় এই সাধুসঙ্ঘের। গুরু-শিষ্যের ভাব বিনিময়, ভজন-সাধন ও ভক্তি-শ্রদ্ধা শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন বাউল ফকিররা।
রাত পোহালে পাখি বলে দেরে খাই দেরে খাই, দয়াল চাঁদ আসিয়া আমায় পার করে নেবে এমন সৌভাগ্য আমার কবে হবে, এমন গুরুবাদী ও দেহতত্ত্ব গানের জমকালো আসর সমাপ্তির পর আপাদমস্তক সাদা পোশাক পরিহিত বাউল ফকিররাও একে একে ছেড়ে গেছেন আখড়াবাড়ি।
রীতিনুযায়ী মূলত শুক্রবার দুপুরে মশলাবিহীন তরকারী, সাদা ভাত আর দই মিষ্টি দিয়ে পুণ্য সেবা নিয়ে বাউল ফকিররা ফিরতে শুরু করেছেন যার যার ঠিকানায়। সাঁইজীর প্রতি ভক্তি প্রদর্শন এবং গুরুদীক্ষা, ভাব-জগতের মরমী গানের মধ্যদিয়ে বাউলরা কাটিয়েছেন তিনদিন তিন রাত। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ ছাড়াও মরা কালি নদীর তীরে বসে বাউলদের খণ্ড খণ্ড গানের আসর।
উল্লেখ্য, দেহতত্ত্ব, গুরুতত্ব এবং সর্বোপরি মানবতার মুক্তির কথাই সাধক লালন সাঁইজীর গানে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। যেখানে যাত-ধর্ম বা কোনো নির্দিষ্ট জাতির ভেদাভেদ নেই, আছে শুধু মানুষে মানুষে ভালোবাসা। গানে গানে ফকির লালনের অমিয় বাণী আগত হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাকে দারুণভাবে মুগ্ধ ও উজ্জীবিত করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় আলোচনা ও গান পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘটে তিনদিনের স্মরণোৎসব। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দোল পূর্ণিমার তিথিতে ছেঁউড়িয়াস্থ লালনের আখড়াবাড়িতে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment