rongginnbd
Wednesday, April 11, 2018
বৈশাখের সাজ-পোশাকেও থাক স্বস্তি
রঙিন ডেস্ক :
দরজায় কড়া নাড়ছে বৈশাখ। বাঙালিদের উৎসবগুলোর মধ্যে সব থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য বহন করে বৈশাখ। এই উৎসবকে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের বৈশাখের রঙে নিজেদের রাঙাতে থাকে নানান আয়োজন। মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত সাজে বাঙালি ললনারা। বৈশাখের সাথে সাথে আসে প্রচণ্ড গরম। তবে এই গরমেও বৈশাখী সাজ ও পোশাকে যেন থাকে স্বস্তি। তাই চলুন দেখে নেয়া যাক কেমন কাপড় পরবেন আর কিভাবে সাজবেন-
বৈশাখে সুতি শাড়ি বেছে নেওয়া ভালো। আগে সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরা হতো, কিন্তু এখন নানা রঙের শাড়ি পরা হয় বৈশাখে। বৈশাখের নানা রঙের শাড়ি পরে মেয়েরা। একরঙা সুতি শাড়িতে চিকন পাড় ভালো লাগে। যেহেতু গরম তাই হাফহাতা বা স্লিভলেস ব্লাউজ পরতে পারেন। আবার শাড়ির সাথে মিল রেখে বাটিকের ব্লাউজ পরতে পারেন। এই দিনে শাড়ি বাঙালী স্টাইলে পরলেই ভালো লাগবে। অনেকেই শাড়ির বদলে গরমের জন্য সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া পরতে পছন্দ করে। যেহেতু উৎসবটি একেবারে দেশীয় সংস্কৃতির তাই মেয়েদের জন্য শাড়ি, আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবীটাই বেশি মানানসই।
নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে মেকআপ করাটা জরুরী। তবে সেটা হওয়া উচিত হাল্কা বেইজের। কারণ দীর্ঘ সময় গরমে বাইরে থাকতে হয় এই দিনে। প্রধান করণীয়গুলোর মধ্যে হলো পরিচ্ছন্ন থাকা এবং উৎসবের কয়েকদিন আগে থেকে ত্বকের যত্ন নিয়ে রাখা। মেকআপ করার আগে মুখে বরফ টুকরা ঘষে নিন এতে মেকআপ ত্বকের ভেতরে যাবেনা আর ঘাম কম হবে। হাল্কা ফেস পাউডার ব্যবহার করুন। চোখ গাড় করে সাজান। গাড় লিপস্টিক ব্যবহার করুন। ব্যাস সাধারণ তবে আকর্ষণীয় লুকে হয়ে যাবে বৈশাখের সাজ।
শাড়ির সঙ্গে গয়না না হলে কি চলে? সেক্ষেত্রে মাটির গয়না বেছে নেয়া ভালো। মাটির মালা হতে হবে লম্বা। আবার কাঠ, রূপা, মুক্তা বা তামার মালা পরতে পারেন। ভারি গয়না পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিন। বাঙালি নারীর হাত ভর্তি চুড়ি তো থাকতেই হবে! গয়না না পরলেও দুহাত ভর্তি চুড়ি সাজ পূর্ণ করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন। মাটির বা কাঠের চুড়িও কিন্তু বেশ মানিয়ে যায়। পোশাকের রঙের প্রাধান্য যেটাই থাকুক না কেন, হাতে থাকা চাই রেশমি চুড়ি।
এই দিনটিতে চুল কেমন করে বাঁধবেন তা নিয়েই অনেকে চিন্তায় থাকেন। গরম কাল তাই অনেকে চুল ছাড়া রাখতে বিব্রত বোধ করেন,তারা চুল বেণী বা খোঁপা করে রাখতে পারেন। আবার খোঁপা অনেকে নিজে করতে পারেন না। পার্লারে গিয়ে করাটাও কঠিন, কারণ উৎসবের দিনে জায়গা পাওয়া যায়না। তাই নিজে কিছু করতে না পারলে বৈশাখের আগে কয়েক দিন খোঁপা করা শিখে নিতে পারেন। বেশি বড় খোঁপা করলে মাথা ভারি হয়ে যায়, বেশি সময় থাকাও যায় না। তাই খোঁপাতে একটি ফুল গুঁজে নিলে দেখতে ভালো লাগে।
যাদের চুল ছোট তারা ভালো করে আঁচড়ে ক্লিপ লাগিয়ে নিন। যারা চুল ছেড়ে রাখতে চান তারা একপাশে চুল নিয়ে অন্য পাশে একটি ফুল আটকিয়ে নিন। এতে মাথা হাল্কাও থাকবে আবার বৈশাখের আমেজটাও থাকবে। ফুল আটকাতে না চাইলে পরে নিবেন ফুলের মুকুট। তবে যেহেতু বাঙালির উৎসব তাই ফুল থাকতেই হবে। উৎসবের আগে তেল মাসাজ করে শ্যাম্পু করে নিন। কারণ চুলের যত্নটাও জরুরী। কোনো প্যাক ব্যবহার করতে পারেন এতে রোদে চুলের বেশি ক্ষতি হবেনা।
বৈশাখে লাল টিপটাই মানায় বেশি। আবার শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে টিপ পরতে পারেন। তবে যেকোনো রঙের শাড়ির সঙ্গেই কিন্তু লাল টিপ বেশ মানিয়ে যায়। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যাগ নির্বাচন করুন। কালো আর লাল রঙ্গের ব্যাগ মানিয়ে যায় সব রঙের শাড়ির সঙ্গে। মাঝারি সাইজের ব্যাগ ব্যবহার করুন।
গরমকালের জন্য টুকটাক প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যাগে রাখবেন; ছোটপানির বোতল, হাল্কা মেকআপ, রুমাল এইসব। তবে ব্যাগ যেন বেশি ভারি না হয়। জুতা অনেকেই হিল পরে হাঁটতে পারেন না, আর এই উৎসবে হাঁটতে তো হয়ই। তাই স্লিপার পরাই ভালো। সারা বছরে এই পয়লা বৈশাখ একবারই পাওয়া যায়, এজন্য এর পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া দরকার। তাই দু’দিন আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু, নিজস্ব স্টাইলে সাজুন আর আরামদায়কভাবে উৎসবটি স্বস্তির সাথে উপভোগ করুন।
বৈশাখের আগের প্রস্তুতিদুই তিন দিন আগে থেকে ফেসিয়াল, স্কিন পলিশ, মেনিকিওর, পেডিকিওর করে নিলে ভালো। চুলের জন্য প্রোটিন প্যাক ব্যবহার করুন। এতে মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ফ্রেস দেখাবে আর চুল ও ঝলমল করবে। আগের রাতেই সব প্রসাধনী সামগ্রী হাতের কাছে গুছিয়ে রাখতে হবে। তাহলে সকালে তৈরি হওয়ার সময় খুব ঝামেলায় পড়তে হবে না। যেহেতু বাইরে তীব্র গরম তাই ফাউন্ডেশন বা প্যান কেক যাই ব্যবহার করা হোক সেটা যেন ওয়াটার প্রুফ হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অবশ্যই মেইকআপের আগে সানস্ক্রিন লোশন ও সানস্ক্রিনযুক্ত পাউডার ব্যবহার করতে হবে। মুখে, গলায়, ঘাড়ে, পিঠে ও হাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হবে। আর সঙ্গে একটি রঙিন ছাতা, ছোটপাখা ও এক বোতল পানি রাখতে মোটেও ভুল করবেন না।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment