rongginnbd
Wednesday, December 13, 2017
গর্ভাবস্থায় কিছু সমস্যার সমাধান
রঙিন ডেস্ক:
গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক অবস্থা থেকে হরমোনের বেশ তারতম্য ঘটে, শারীরিক গঠনের কিছু পরিবর্তন হয়, তাই মায়ের কিছু কিছু শারীরিক সমস্যা নতুন করে দেখা দেয় বা বেড়ে যায়। দেখা যায় যে, ডেলিভারি হয়ে যাবার পরপর সে সমস্যাগুলোও চলে যায়। এগুলোর বেশিরভাগই ফিজিওলজিক্যাল বা স্বাভাবিক। প্রেগনেন্সি ইস্যুটা যেহেতু সবার কাছে খুব সেন্সিটিভ তাই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এসব সমস্যায়। আসলে খুব বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হবার কিছু নেই। জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন নিয়ে এলে, কিছু পরামর্শ মেনে চললে যার অধিকাংশই প্রতিকার বা প্রতিরোধ করা যায়। বিষয়গুলো সবারই জানা থাকা প্রয়োজন।
কোমর ব্যথা:
প্রতি ১০০ জনের প্রায় ৫০ জনেরই এ সমস্যা দেখা দেয়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, মোট দশ ঘণ্টা।
অনেক বেশি ওজন বাড়িয়ে ফেলা পরিহার করতে হবে।
পা কিছুটা উঁচুতে রেখে যেমনঃ পায়ের নিচে একটা বা দুটো বালিশ রেখে বিশ্রাম নিন।
শক্ত বিছানায় শোয়া ভালো।
দাঁড়ানোর সময় সোজা হয়ে দাঁড়াবেন।
উঁচু হিলযুক্ত জুতো পরা যাবে না।
কুঁজো হয়ে বসা বা কোনো জিনিস নিচ থেকে তোলা পরিহার করা শ্রেয়।
ভারী এবং পরিশ্রমের কাজ করবেন না।
কোমরে ম্যাসাজ করতে পারেন।
গরম বা ঠাণ্ডা কিছু দিয়ে স্যাঁক দিতে পারেন।
বমিবমি ভাব এবং বমি:
প্রেগনেন্সির অন্যতম সমস্যা হল বমিবমি ভাব এবং বমি করা। দেখা যায় যে প্রতি ১০০ জন গর্ভবতীর প্রায় ৭৫ জনেরই এ সমস্যাটা দেখা দেয়। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই এ সমস্যা হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই, বলা হয়ে থাকে বিছানাতেই শুকনো খাবার যেমন :
টোস্ট, বিস্কিট, মুড়ি ইত্যাদি খেতে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে বলা হয়।
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হয়।
একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান।
কোষ্ঠকাঠিন্য:
প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।
আঁশজাতীয় খাবার যেমন :
শাকসবজি এবং তাজা ফলমূল বেশি করে খেতে হবে।
ইসপগুলের ভূষি খাওয়া যেতে পারে।
চাপ এলে টয়লেটে যেতে বিলম্ব করা যাবে না।
কিছুটা হাঁটাচলার অভ্যেস করা ভালো, দিনে ২০-৩০ মিনিট করে সপ্তাহে ৩ দিন হাঁটা যেতে পারে।
পায়ে পানি আসা ও পা ফোলা:
বিশ্রাম নিন এবং পা দুটো একটা বা দুটো বালিশের ওপর রাখুন।
একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না।
আরামদায়ক জুতো পরুন।
বেশি করে পানি পান করুন।
পায়ে খিল ধরা:
পায়ে ম্যাসাজ করতে হবে।
গরম স্যাঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি-ওয়ান সেবন করতে হয়।
বুক জ্বালাপোড়া ও এসিডিটি:
একসাথে অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা পরিহার করতে হবে।
খাবার পরপরই বিছানায় শুতে চলে যাওয়া যাবে না।
বিছানায় যাবার অনেকক্ষণ আগেই খাবার খেয়ে ফেলুন।
উঁচু বালিশে শুলে আরাম পাওয়া যায়।
এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
সাদা স্রাব:
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এর প্রধান চিকিৎসা।
নরম সূতি আন্ডারগার্মেন্টস ব্যবহার করা ভালো।
পায়ে আঁকাবাঁকা শিরা, পাইলস:পায়ে আঁকাবাঁকা শিরার জন্যে ক্রেপ ব্যাণ্ডেজ ব্যবহার এবং বিশ্রামের সময় পা উঁচু করে রাখতে বলা হয়।পাইলসের জন্যে নিয়মিত টয়লেট সারা জরুরি; কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়ে যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। টয়লেট সারার সময় বেশি চাপ দেওয়া যাবে না। বাম কাত হয়ে শোয়া ভালো।গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।তবে মনে রাখতে হবে যে, ছোট ছোট সমস্যা গুলো যেন বড় হতে না পারে সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যদি সেই সমস্যা বেশি মনে হয় তাহলে অতিসত্বর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নি য়ে যান। মায়ের পেটের মধ্যে থাকা ছোট্ট বাবুটি আগামি দিনের ভবিষ্যৎ। তাকে নিয়েই সব স্বপ্ন ও ভাবনা। সেই স্বপ্নগুলো যেন কোন ভাবেই ধূলিসাৎ না হয়। কারণ ছোট ছোট সমস্যাগুলো হতে পারে আপনার স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment