rongginnbd
Monday, December 11, 2017
আর নয় পেনকিলার, পরিবর্তে যা করবেন
রঙিন ডেস্ক :
শরীরে একটু ব্যাথা অনুভব করলেই আমাদের নজর যায় ব্যাথানাশক ওষুধ বা পেন কিলারের দিকে। কিন্তু এমনভাবে পেন কিলার খাওয়াটা যে কতটা ক্ষতিকারক তা কি জানা আছে? সম্প্রতি নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত হারে পেনকিলার খেলে দেহের ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এতে শরীরে বাসা বাঁধা ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো মারণ ব্যাধি। তাহলে পেনকিলারের পরিবর্তে কি করবেন? চলুন আজকের আলোচনায় জেনে নেয়া যাক ব্যাথা দূর করতে কিছু প্রাকিৃতিক উপাদান সম্পর্কে-
১. দই:
এতে রয়েছে বেশ কিছু ভাল ব্যাকটেরিয়া, যা যন্ত্রণা কমায়। বিশেষত তলপেটের যন্ত্রণা কমাতে এইসব ব্যাকটেরিয়াগুলি দারুন কাজে দেয়।
২. হলুদ:
ব্যথা কমাতে এই মশলাটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। কারণ কি জানেন? হলুদে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি উপাদান, যা যন্ত্রণা কমানোর পাশাপাশি ফোলা ভাব কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, বাজার চলতি একাধিক জনপ্রিয় পেনকিলার থেকে কোনও অংশে কম কাজে আসে না এই ঘরোয়া ওষুধটি। তাই এবার থেকে শরীরের কোথাও চোট-আঘাত লাগলে এক গ্লাস দুধে হলুদ মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন অনেক আরাম পাবেন।
৩. চেরি:
যন্ত্রণা কমাতে এই ফলটি দারুন কাজে আসে। এতে অ্যান্থোসায়ানিস নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরে প্রদাহ কমায়। ফলে এই ফলটি খেলে ব্যথা কমতে শুরু করে।
৪. আদা:
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকায় যন্ত্রণা কমাতে আদা দারুন কাজে দেয়। বিশেষত, আর্থ্রারাইটিস, স্টমাকের যন্ত্রণা, চেস্ট পেন, পিরিয়োডের যন্ত্রণা এবং পেশির ব্যথা কমাতে আদার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। যে জায়গায় যন্ত্রণা হচ্ছে সেখানে অল্প করে আদা বেটে লাগিয়ে দিন অথবা আদা চা খালেই হাতেনাতে ফল পাবেন।
৫. লবণ:
গোসল করার সময় ১০-১৫ চা চামচ লবণ পানিতে মিশিয়ে দিন। তরপর সেই পানিতে কম করে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন প্রদাহ বা যন্ত্রণা কমতে শুরু করবে। লবণ কোষকে তরতাজা করে তোলে। ফলে যন্ত্রণার প্রকোপ কমে যায়।
৬. লাল আঙুর:
সেভাবে জনপ্রিয়তা না পেলেও যে কোনও ধরনের ব্যথা কমাতে এই ফলটি দারুন কাজে লাগে। কারণ লাল আঙুরে রয়েছে রেভারেট্রল নামে একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কম্পাউন্ড, যা কার্টিলজকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি জয়েন্ট পেন এবং বেক পেন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৭. সয়াবিন:
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে অর্থ্রাইটিস, বিশেষত অস্টিওআর্থ্রারাইটিসের যন্ত্রণা কমাতে সোয়া প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সোয়াতে ইসোফ্লেবোনস নামে একটি অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমায়। তাই আপনি যদি আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন সোয়া মিল্ক।
৮. ঝাল মরিচ:
খাবারে অর্ধেক চামচ ঝাল মরিচ মিশিয়ে সেই খাবার খেয়ে ফেলুন। অল্প সময়ের মধ্যেই যে কোনো ধরনের যন্ত্রণা কমে যাবে। আসলে মরিচে কেপসাইসিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা ব্যথা কমায়।
৯. মিন্ট পাতা:
পেশিতে যন্ত্রণা হচ্ছে বা দাঁতের যন্ত্রণায় মাঝে মাঝেই কাবু হয়ে পরেন? চিন্তা নেই এবার থেকে এমনটা হলেই এক মুঠো মিন্ট পাতা চিবিয়ে খেয়ে নেবেন। অল্প সময়ের মধ্য়েই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে। প্রসঙ্গত, মাথা যন্ত্রণা, নার্ভের পেন এমনকী পেটের নানা গোলযোগ সারাতেও এটি দারুন কাজে দেয়।
১০. কফি:
কফিতে রয়েছে কেফিন নামে একটি উপাদান। এটি যন্ত্রণার প্রকোপ কমায়। এমনকী মাথার যন্ত্রণা কমাতেও দারুন কাজে আসে কেফিন। তবে এ প্রসঙ্গে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, বেশি মাত্রায় কফি খাওয়া একবারেই উচিত নয়। শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফিন প্রবেশ করলে অন্য ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment